বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৪০ অপরাহ্ন
Title :
মেলেনি প্যারোলে মুক্তি, ছাত্রলীগ নেতা শাহরুখের সাথে জেলগেটে দেখা করতে গেলো মৃত বাবা বানারীপাড়ায় রাজুর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি-সন্ত্রাসের অভিযোগ, হামলার শিকার বাবা ছেলে। উজিরপুরে এসএসসি পরীক্ষায় প্রক্সি: যুবককে এক বছরের কারাদন্ড নিপীড়ন বিরোধী সাংবাদিক ফ্রন্টের কমিটি গঠন নারায়ণগঞ্জের ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত আসামি ইউসুফ (৪৫) কে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১১ কালিয়াকৈর পৌর সভা নির্বাচনে প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন মেয়র পদপ্রার্থী দেওয়ান মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের তীব্র প্রতিবাদ, প্রকৃত তথ্য প্রকাশের দাবি মিরপুরে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নতুন উদ্যোগ: শাহ আলী থানার ওপেন হাউজে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বরিশালে এবার ডিডাব্লিউএফ নার্সিং কলেজের অর্থ কেলেংকারি ফাঁস! শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ রাজধানীর উত্তরায় মদের বারে নারী পুরুষসহ আটক ১৪০ জন

সদরঘাটে লঞ্চ দুর্ঘটনায় ছেলে নিহত বাবা নিখোঁজ …গ্রামজুড়ে ঈদের আনন্দ রূপ নিল বিষাদে !

  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ, ২০২৬
  • ৭৬ Time View

রাহাদ সুমন,বরিশাল:

বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে গ্রামের বাড়িতে সবার সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে চেয়েছিলেন সোহেল ফকির।

মা ও নাবালক তিন বোন বাড়িতে অপেক্ষায় ছিলেন। বাবার সঙ্গে রাজধানী থেকে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন সোহেল ফকির ও তার স্ত্রী। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আজ বৃহস্পতিবার সকালে বাড়িতে পৌঁছাতেন। বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার চানপুরা ইউনিয়নের চরকাটা গ্রামের ফকির বাড়িতে থাকতো ঈদের আনন্দ। বুধবার বিকেলে ঢাকা সদরঘাটের দুর্ঘটনা শুধু ফকির বাড়িতে নয়, পুরো গ্রামেই ঈদের আনন্দ বিষাদে পরিণত হয়েছে। । উপার্জনক্ষম দুইজনকে হারিয়ে সোহেলের পরিবার অনিশ্চিত জীবনের মুখে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকালে সোহেলের নিথর দেহ বাড়িতে পৌঁছায়। বাবা মিরাজ ফকির এখনও বুড়িগঙ্গায় নিখোঁজ। রাজধানীর মির্ডফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সোহেলের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রেশমা আক্তার। মা ও বোনসহ স্বজদের কান্না- আহাজারিতে ওই বাড়িতে আসা অনেক গ্রামবাসী চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় একটি অ্যাম্বুলেন্সে সড়কপথে সোহেলের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। দুর্ঘটনার খবর জানার পর বুধবার রাত থেকেই মৃধা বাড়িতে গ্রামাবাসীর ভিড় ছিল। মরদেহ পৌঁছার পর মা ও বোনসহ স্বজনদের আর্ত চিৎকারে উপস্থিত সকলে আবেগ আপ্লুত হন। জোহরের নামাজের পর গ্রামের নুর মোহম্মদ মৃধা বাড়ি জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে পারিবারিক গোরস্তানে সোহেলকে চির নিন্দ্রায় শায়িত করা হয়।
তার চাচা ফারুক ফকির জানান, ভাই মিরাজ ফকির (সোহেলের বাবা) ১৫ থেকে ২০ বছর আগে ঢাকায় যান। সাভারের হেমায়েতপুরে একটি ট্যানারিতে শ্রমিকের কাজ করতেন। ৫ বছর আগে একমাত্র ছেলে সোহেলকেও নিয়ে যান। সে বাবার পেশায় যুক্ত হয়। বছর দুয়েক আগে সোহেল বিয়ে করে। স্ত্রী ও বাবাকে নিয়ে সাভারে ভাড়া বাসায় থাকতেন। বৃহস্পতিবার বোনাস পেলে ঈদ উদযাপনের জন্য তারা বাড়িতে রওনা হয়েছিলেন।

ফারুক ফকির জানান, সোহেলর মা নাবালক তিন মেয়ে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে থাকেন। মিরাজ ও ভাতিজা সোহেল ছিল পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাদের অনুপস্থিতিতে মা ও তিন বোনের দেখার কেউ রইলো না। পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ফারুক ফকির।
প্রসঙ্গত, মিরাজ ফকির, সোহেল ও তার স্ত্রী মেহেন্দিগঞ্জ যাওযার জন্য বুধবার (১৮ মার্চ) বিকাল ৫টার দিকে একটি ট্রলারে রাজধানীর সদরঘাটে পৌঁছান। ট্রলার থেকে তারা ‘আসা-যাওয়া’ নামক লঞ্চে উঠছিলেন। এ সময়ে জাকির সম্রাট-৩ নামের আরেকটি লঞ্চ চাপা দিলে সোহেল নিহত হন। তার বাবা মিরাজ বুড়িগঙ্গায় পড়ে নিঁখোজ এবং সোহেলের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী গুরুতর আহত হন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

© All rights reserved © 2025
Design By Raytahost
dailydhakaralo